Showing posts with label বাবা. Show all posts
Showing posts with label বাবা. Show all posts

বাবা

 বাবা


কেমন আছো বাবা?
পাতা ঝরার দিন শেষ হয়ে যায়
তুমি আর ফিরে এলেনা।
উনত্রিশ বছর তোমার সাথে দেখা নেই।
এই দীর্ঘ সময়ে অনেক কিছু বদলে গেছে।
তোমার চেনা শহর, মানুষ, রাজনীতি, ক্ষমতা, সেতু, উড়ালপথ।
আমিও বাবা হয়েছি, তোমার চেয়ে আমি এখন বড়!
তুমি চলে গেল কাটায় কাটায় পঞ্চাশে।
শুনেছি, দাদা মানে তোমার বাবা গিয়েছিলেন আরও আগে।
আমার পঞ্চাশ তম জন্মদিনে
সকালে যখন ঘুম ভাংলো, নিজেকে স্পর্শ করে দেখেছিলাম আমি বেচে আছি।
তোমার বংশে পুরুষেরা নাকি বেশি দিন বাচে না।
আমি একান্ন ও বায়ান্নতেও বেচে আছি।
একটি মানুষ দীর্ঘদিন কেন বাচে বলতে পারো বাবা?
কিংবা ঠিক কতটা সময়কাল একজন মানুষের
এই পৃথিবীতে বেচে থাকা উচিৎ!?
আমার তো কোন অর্জন নেই বাবা।
আমি ভ্রমণ করেছি, কবিতা লিখেছি, সুরের মায়ায় সুর বেধেছি, ভালবাসার জন্য জীবন হাতে নিয়েছি!
অতঃপর আমি হয়ে গেছি বেহালার সুর!
আমার কোন অর্জন নেই!
তবে এটা অনুভব করি আমি তোমার মতই স্বাধীনচেতা।
খুব ছোট থেকেই আমি তোমাকে ভীষণ ভয় পেতাম।
তুমি আমাকে অনেক শাসন করতে তাই।
একদিন আমাকে খুব মেরেছিলে। আমি ছোট্ট একটি শিশু তখন।
বিকেলে আমার মন ভালো করার জন্য একটি সিনেমা দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলে।
শিশুদের একটি রঙিন চলচ্চিত্র - টিনটুকি!
সেটাই আমার জীবনের প্রথম রঙিন ছবি।
আমি আজও চোখ বন্ধ করলে সেই ছবি দেখি।
তোমার রেখে যাওয়া মানিব্যাগ আর চশমাটা এখনো আমার কাছে আছে।
আর আছে একটি ডায়েরি। যেখানে তুমি নিজ হাতে লিখেছো আমার জন্মের দিনক্ষণের কথা।
চলে যাবার আগে তুমি প্রায় আকাশের দিকে তাকিয়ে হাতের উপর মাথা রেখে কি যেন ভাবতে।
কি ভাবতে বাবা?
আজকাল আমিও ঠিক তোমার ভংগিতেই ভাবি।
কী ভাবি? যেদিন তোমার সাথে দেখা হবে সেদিন না হয় বলবো!
মেঘ দিয়ে আমরা একটি ভেলা বানাবো।
সেই মেঘের ভেলায় চড়ে আমরা দেখবো ছেড়ে আসা পৃথিবী আর শুনবো আকাশ পানে চেয়ে থাকার সেই গল্প।
মা'য়ের কথা বলা হলোনা।
মা ভালো আছেন।
তোমার উপর তার কোন আক্ষেপ নেই। তোমার চলে যাওয়ার দিনটি সব সময় মনে রাখেন।
হাটুর ব্যাথার তীব্র কষ্ট ওঠে মাঝে মাঝেই।
মায়ের জীবনটা আরও সুন্দর হতে পারতো।
আমি বা তুমি আমরা কেউই মা'র জন্য কিছু করতে পারিনি।
অথচ মা সব কিছু দিব্যি ভুলে আজও আমাদের কথাই ভাবেন!
তুমি কি অবাক হচ্ছো?
উনত্রিশ বছর পর কেন লিখছি!
তোমাকে একটি কথা বহুবার বলতে চেয়েও বলতে পারিনি বাবা।
আমি একটি দীর্ঘ সময় প্রচন্ড কষ্টের ফসিল বয়ে বেড়াচ্ছি।
আমি একবারই কেদেছিলাম এম্বুল্যান্সের স্ট্রেচারে রাখা তোমার নিথর দেহের পা দুটো ধরে।
আমি আবারও তোমার আংগুল ধরে হাটতে চাই বাবা।
আরও একবার তোমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমোতে চাই, ঠিক সেভাবে! যেভাবে ছোট্ট আমি ঘুমাতাম।
আমি চিতকার করে বলতে চাই, যা এতদিনে বলতে পারিনি!
আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি বাবা।
অনেক ভালবাসি।
-----------------------------------
রচনা কাল ২৫ অক্টোবর ২০২২

কবিতাটির অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।



আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ নীল মানবের কাব্য I ১০ ফেব্রুয়ারির পর পাওয়া যাবে নবান্ন প্রকাশনীর স্টলে I অমর একুশে বইমেলা ২০২৪ নবান্ন প্রকাশনী।। স্টল নং ৪৮৪--৪৮৫

দিয়াশলাই আবিস্কারক জন ওয়াকারের ২৪২তম জন্মবার্ষিকী ২৯ মে ২০২৩। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একজন দিয়াশলাই সংগ্রাহক হিসেবে আমার ছোট্ট প্রয়াস -জন ওয়াকার ও দিয়াশলাই। এটি একটি স্মল সাইজ বা পকেট সাইজ বই। মুলত শিশু কিশোরদের জন্য এই বইটি। তবে যেকোন বয়সের পাঠকদের কাছে বইটি ভালো লাগবে আশা করি। এ বইটি প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য, দিয়াশলাই সংগ্রহের মত সুন্দর একটি বিষয়কে সবার সামনে তুলে ধরা। শিশু কিশোরদের ভালো কাজ তথা কোন না কোন সংগ্রহে উদ্বুদ্ধ করা। কারণ শখ ও সংগ্রহ আমাদের আনন্দের পাশাপাশি শিক্ষিতও করে তোলে। জন ওয়াকারের জীবন ও আবিষ্কার এ বইটিতে সচিত্র ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত হবে ২৯ মে ২০২৩ আপনারা চাইলে সংগ্রহে রাখতে পারেন । ধন্যবাদ।